সর্বশেষ

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

বৈরুতে পেজার বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত, আহত অন্তত ২,৭৫০

বৈরুতে পেজার বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত, আহত অন্তত ২,৭৫০

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে একটি ভয়াবহ পেজার বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত এবং অন্তত ২,৭৫০ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিস্ফোরণটি বিশেষত দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘাঁটিতে ঘটে, যেখানে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈরুতে পেজার বিস্ফোরণে | ছবিঃ ছবি: রয়টার্স

আহতদের মধ্যে রয়েছেন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা, মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং বৈরুতে অবস্থানরত ইরানের রাষ্ট্রদূত। বিস্ফোরণের ধাক্কায় আশপাশের অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

হিজবুল্লাহ এই বিস্ফোরণের জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল এই হামলার জন্য “ন্যায্য শাস্তি” পাবে। বিস্ফোরণের পর থেকেই লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং হিজবুল্লাহর এই অভিযোগের ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। তবে, রয়টার্স যোগাযোগ করলে ইসরায়েল এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জিয়াদ মাকারি এই বিস্ফোরণকে "ইসরায়েলি আগ্রাসন" বলে অভিহিত করেছেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মাকারি বলেন, হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পেজার বিস্ফোরণ ইসরায়েলের অন্যতম বড় হামলা, যা তাদের লেবাননে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল এবং ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষ চলছে, বিশেষত গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা বিস্ফোরণটিকে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

এই বিস্ফোরণের পর লেবাননে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে হিজবুল্লাহ নেতৃত্ব তাদের সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।

মুক্ত প্রকাশ

প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

খুলনা টাইগার্সের ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ: হোল্ডারের ওভারে ম্যাচের মোড়

খুলনা টাইগার্সের ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ: হোল্ডারের ওভারে ম্যাচের মোড়

বিপিএলের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে খুলনা টাইগার্স এবং চিটাগাং কিংসের মধ্যে হওয়া ম্যাচটি ছিল এক কথায় নাটকীয়। ১৩০ রানে ৭ উইকেট পতনের পরও ম্যাচ ছিল খুলনার নিয়ন্ত্রণে। তবে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায় নাটকীয়তার রঙ বদলায়, আর চিটাগাং কিংস অসাধারণ এক জয়ে পৌঁছে যায় ফাইনালে।

খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ | ছবিঃ সংগৃহিত

খুলনার পরাজয়ের নায়ক হিসেবে উঠে এসেছে জেসন হোল্ডারের একটি ওভারের কথা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ স্পষ্টভাবেই বলেন, "আমাদের পরাজয়ের আসল কারণ ছিল হোল্ডারের তৃতীয় ওভার (ইনিংসের ১৮তম)। ওই ওভারে যে ১৩ রান এল, সেটাই ঘুরিয়ে দিয়েছিল ম্যাচ। আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে হোল্ডারের মতো অভিজ্ঞ বোলারের কাছ থেকে এমন বোলিং আশা করিনি।"

মিরাজ আরও যোগ করেন, "আমার মনে হচ্ছিল, যেকোনো সময় কিছু একটা অঘটন ঘটবে। সেই ভয়ই আমার মনকে পুরোপুরি গ্রাস করেছিল।" এই মানসিক চাপও হয়তো ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

যেখানে শেষ তিন ওভারে চিটাগাংয়ের প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান, সেখানে হোল্ডারের ১৮তম ওভারে আলিস আল ইসলামের কাছে একটি ছক্কা ও একটি চার হজম করা খুলনার জন্য ছিল বড় ধাক্কা। যদিও হোল্ডার তার আগের দুই ওভারে মাত্র ১০ রান খরচ করেছিলেন, শেষ দিকে তার খরুচে ওভারই ম্যাচের গতি পাল্টে দেয়।

শেষ ওভারে মুশফিক হাসান ১৫ রান দিয়ে দেন, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে মিরাজের মতে, "শেষ ওভারে মুশফিক হাসানের ১৫ রান খাওয়ার ফলে আমরা হেরেছি ঠিকই, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, ম্যাচটা আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে (১৮তম ওভারে) ওই ১৩ রান দেওয়াতেই।"

এই ম্যাচটি ক্রিকেটের অমোঘ সত্যটি আবারও মনে করিয়ে দিল—খেলার ভাগ্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের উপর। খুলনার জন্য এটি ছিল ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ, আর চিটাগাংয়ের জন্য এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প।